আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি মানুষের চেয়ে দ্রুত এবং আরও দক্ষতার সাথে জটিল ইলেকট্রনিক চিপ ডিজাইন করতে পারে। সম্প্রতি, প্রিন্সটন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকরা একটি গবেষণা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তারা দেখিয়েছেন যে এআই মডেলগুলি মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে মিলিমিটার-ওয়েভ (মিমি-ওয়েভ) ওয়্যারলেস চিপ ডিজাইন করতে পারে। এই ধরনের চিপ ডিজাইন করতে মানুষের সাধারণত সপ্তাহ বা মাস লেগে যায়। এআই-এর তৈরি চিপ ডিজাইনগুলি শুধু দ্রুতই নয়, বরং আরও দক্ষ এবং কার্যকর।
মিমি-ওয়েভ ওয়্যারলেস চিপগুলি ৫জি মডেমে ব্যবহৃত হয়, যা বর্তমানে স্মার্টফোনে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই চিপগুলি অত্যন্ত জটিল এবং ক্ষুদ্রায়তনের প্রয়োজন হয়, যা নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বর্তমানে, নির্মাতারা মানুষের দক্ষতা, কাস্টম সার্কিট ডিজাইন এবং প্রতিষ্ঠিত টেমপ্লেটের উপর নির্ভর করে। প্রতিটি নতুন ডিজাইন ধীরে ধীরে অপ্টিমাইজ করা হয়, যা অনেক সময়সাপেক্ষ এবং জটিল প্রক্রিয়া। কারণ, চিপের ভিতরে কী ঘটছে তা পুরোপুরি বুঝতে মানুষের পক্ষে কঠিন। এই কারণে, নির্মাতারা সাধারণত পূর্বে সফল হয়েছে এমন পদ্ধতিগুলোই বারবার ব্যবহার করে।
এই গবেষণায়, গবেষকরা দেখিয়েছেন যে এআই মডেলগুলি একটি বিপরীত ডিজাইন পদ্ধতি ব্যবহার করে চিপ ডিজাইন করতে পারে। এই পদ্ধতিতে, এআই কে কাঙ্ক্ষিত আউটপুট দেওয়া হয়, এবং এটি নিজেই ইনপুট এবং প্যারামিটার নির্ধারণ করে। এআই প্রতিটি চিপকে একটি একক আর্টিফ্যাক্ট হিসেবে বিবেচনা করে, যেখানে পূর্বের টেমপ্লেট বা ডিজাইন পদ্ধতিগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়। এই পদ্ধতিতে তৈরি চিপ ডিজাইনগুলি দেখতে এলোমেলো এবং অদ্ভুত লাগে, যা মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। কিন্তু এই ডিজাইনগুলি বাস্তবে তৈরি করে দেখা গেছে যে এগুলো বিদ্যমান ডিজাইনগুলোর চেয়ে বেশি কার্যকর।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক কৌশিক সেনগুপ্তা, যিনি এই গবেষণার প্রধান লেখক, বলেন, “এই ডিজাইনগুলি দেখতে এলোমেলো মনে হয়, এবং মানুষ সেগুলো বুঝতে পারে না। কিন্তু যখন আমরা এই চিপগুলি তৈরি করি, তখন দেখা যায় যে এআই-এর তৈরি ডিজাইনগুলি বিদ্যমান ডিজাইনগুলোর চেয়ে বেশি পারফর্ম করে।”
তবে, এই গবেষণায় কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, এআই-এর তৈরি ডিজাইনগুলি কাজ করে না, যা বর্তমান জেনারেটিভ এআই টুলগুলোর “হ্যালুসিনেশন” এর মতো। সেনগুপ্তা বলেন, “এই গবেষণার উদ্দেশ্য মানুষের জায়গায় এআই কে বসানো নয়, বরং নতুন টুলের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।”
এআই-এর ব্যবহার শুধু চিপ ডিজাইনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক্স এবং প্রযুক্তির অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিপ্লব ঘটাতে পারে। তবে, এই প্রক্রিয়ায় মানুষের ভূমিকা এখনও অপরিহার্য, কারণ এআই-এর তৈরি ডিজাইনগুলোর কিছু ত্রুটি সংশোধন করতে মানুষের প্রয়োজন হয়।
এই গবেষণা শুধু একটি ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছে, কিন্তু এর সম্ভাবনা অনেক বড়। যদি এই পদ্ধতিকে অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়, তাহলে এটি প্রযুক্তির জগতে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সেনগুপ্তা বলেন, “এটা শুধু শুরু মাত্র। ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রে আরও বড় কিছু আসতে পারে।”
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুগলের নতুন এআই টুল ‘ক্যারিয়ার ড্রিমার’