কিভাবে ডিস্টিলেশন ব্যবহার করে ডিপসিক কম খরচের ওপেনএআই এর মত বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে পাল্লা দিচ্ছে?

চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার ডিপসিক সম্প্রতি একটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তারা ডিস্টিলেশন নামের একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরি করেছে, যা তুলনামূলকভাবে কম খরচে এবং অধিক কার্যকর। এটি বিশেষ করে ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে।

ডিস্টিলেশন মূলত একটি বড় এআই মডেল থেকে জ্ঞান আহরণের একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ছোট একটি মডেল তৈরি করা হয়। এই ছোট মডেলটি মূল বড় মডেলের মতোই দক্ষ হতে পারে, তবে এটি তুলনামূলকভাবে দ্রুত এবং কম ব্যয়ে প্রশিক্ষিত হয়। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাধারণত কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে তাদের মডেল তৈরি করে, যা দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টার ফল। কিন্তু ডিস্টিলেশনের মাধ্যমে একটি ছোট দল খুব অল্প খরচে এবং কম সময়ে প্রায় একই স্তরের একটি নতুন মডেল তৈরি করতে পারে।

ডেটাব্রিক্স-এর সিইও আলি ঘোডসি বলেন, “এই ডিস্টিলেশন প্রযুক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কম খরচে কার্যকর। এটি এখন যে কারও জন্য সহজলভ্য।” তার মতে, এই পদ্ধতির কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।

ডিস্টিলেশনের মাধ্যমে কিছু গবেষক সম্প্রতি অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা মাত্র ৪৫০ ডলার ব্যয়ে ১৯ ঘণ্টার মধ্যে ওপেনএআই-এর একটি মডেল পুনরায় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। অপরদিকে, স্ট্যানফোর্ড এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মাত্র ৫০ ডলারের কম ব্যয়ে ২৬ মিনিটে তাদের নিজস্ব একটি উন্নত মডেল তৈরি করেছেন। আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান হাগিং ফেইস মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওপেনএআই-এর সাম্প্রতিক একটি বিশেষ ফিচারের সমতুল্য একটি সংস্করণ তৈরি করেছে।

ডিপসিক যদিও ডিস্টিলেশন পদ্ধতির উদ্ভাবক নয়, তবে তাদের সাফল্য এই প্রযুক্তির শক্তিশালী সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তারা দেখিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত-সোর্স (Open Source) গবেষণার গুরুত্ব অনেক বেশি। উন্মুক্ত-সোর্স পদ্ধতিতে প্রযুক্তি দ্রুত বিকশিত হয় এবং সবার জন্য সহজলভ্য হয়।

গ্লিন-এর সিইও অরবিন্দ জৈন বলেন, “প্রযুক্তি শিল্পে উন্মুক্ত-সোর্স সবসময়ই বিজয়ী হয়। সফল একটি উন্মুক্ত-সোর্স প্রকল্প যে গতিতে অগ্রসর হয়, তা প্রতিযোগীদের হার মানিয়ে দেয়।”

ডিপসিক-এর সাফল্যের কারণে ওপেনএআই তাদের পূর্ববর্তী নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করছে। ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি এক পোস্টে স্বীকার করেছেন যে, তারা সম্ভবত উন্মুক্ত-সোর্স নীতি গ্রহণ না করে ভুল করেছে এবং এখন নতুন কৌশল বের করার সময় এসেছে।

ডিস্টিলেশন পদ্ধতির প্রসার এবং উন্মুক্ত-সোর্স প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় একটি নতুন ধারা তৈরি করছে। এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, কেবল বিশাল বিনিয়োগই নয়, বরং সৃজনশীলতা এবং কার্যকরী প্রযুক্তির মাধ্যমেও এআই জগতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুগলের নতুন এআই টুল ‘ক্যারিয়ার ড্রিমার’

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
instagram Group Join Now

সাম্প্রতিক খবর

.আরো