বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভকারী ব্যবসায়ী এবং মানবতাবাদী রতন টাটার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রতন টাটা ছিলেন এমন এক দূরদর্শী নেতা, যিনি শুধু ব্যবসার ক্ষেত্রেই নয়, বরং মানবতার সেবায় তার জীবনের একটি বড় অংশ উৎসর্গ করেছেন। মাইক্রোসফটের সহ–প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাকে একজন “দূরদর্শী নেতা” হিসেবে স্মরণ করেছেন, যিনি পৃথিবীর মানুষের জীবনে একটি অমোচনীয় ছাপ রেখে গেছেন।
লিংকডইনে শোক বার্তায় বিল গেটস লিখেছেন, “রতন টাটা ছিলেন এক দূরদর্শী নেতা, যার মানুষের জীবন উন্নয়নে নিবেদিত প্রচেষ্টা ভারত এবং বিশ্বব্যাপী একটি অমর দাগ রেখে গিয়েছে।” গেটস আরও উল্লেখ করেছেন যে তিনি টাটার সাথে একাধিকবার সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছেন এবং প্রতিবারই তিনি টাটার মানবতার প্রতি অঙ্গীকার ও তার সেবার গভীরতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। “তার সঙ্গে আমাদের একত্রিত প্রচেষ্টা মানুষের জীবনকে আরও স্বাস্থ্যকর ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করেছে,” গেটস লিখেছেন।
তারা একসঙ্গে বিভিন্ন দাতব্য প্রকল্পে কাজ করেছেন এবং গেটসের মতে, এই প্রকল্পগুলো বহু মানুষের জীবন পরিবর্তন করেছে। গেটস আরও উল্লেখ করেছেন যে রতন টাটার অবদান বিশ্বের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং তার মৃত্যু বিশ্বব্যাপী অনুভূত হবে।
রতন টাটার জীবন ও কর্ম কেবল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন একজন সেবা–মনস্ক মানুষ, যিনি ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের জীবন মান উন্নত করতে চেয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে টাটা গ্রুপ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংস্থা হয়ে উঠেছে, যা একাধিক শিল্পে অবদান রেখেছে, যেমন: অটোমোবাইল, ইস্পাত, তথ্যপ্রযুক্তি, এবং আরও অনেক কিছু।
তবে, তার সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তার দাতব্য কার্যক্রম। রতন টাটা টাটা ট্রাস্টের মাধ্যমে ভারতের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি সবসময় চেয়েছিলেন মানুষকে সাহায্য করতে, এবং তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে এক অনন্য স্থানে নিয়ে গেছে।
আবারো স্পেসএক্স-এর নতুন সাফল্য: ফিরে আসা রকেটকে শূণ্যেই ধরে ফেলল
গুগল এবং আলফাবেটের সিইও সুন্দার পিচাইও রতন টাটাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, “তিনি ভারতে একটি আধুনিক ব্যবসায়িক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।” পিচাই উল্লেখ করেছেন যে, টাটা এবং তার মধ্যে গুগলের স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি ‘ওয়েমো‘ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং টাটার দৃষ্টিভঙ্গি তাকে খুবই অনুপ্রাণিত করেছিল। পিচাইয়ের মতে, রতন টাটা শুধু একজন সফল ব্যবসায়ীই ছিলেন না, বরং একজন প্রকৃত মানবতাবাদী যিনি ভারতের উন্নতির জন্য গভীরভাবে যত্নবান ছিলেন।
রতন টাটা তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভারতের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় ৮৬ বছর বয়সে। তার মৃত্যুতে ভারত এবং সারা বিশ্ব থেকে শোকের বার্তা আসতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, আনন্দ মহিন্দ্রা এবং হার্শ গোয়েঙ্কা সহ অন্যান্য ব্যবসায়িক নেতারা টাটাকে শ্রদ্ধা জানান এবং তার কর্মের প্রশংসা করেন।
বিল গেটস এবং সুন্দার পিচাইয়ের মতো বিশ্ব নেতাদের থেকে প্রাপ্ত শ্রদ্ধা প্রমাণ করে যে, রতন টাটা কেবল একজন ব্যবসায়িক আইকন ছিলেন না, বরং তার মানবিক মূল্যবোধ ও কর্মের জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন।
রতন টাটার উত্তরাধিকার কেবল তার ব্যবসায়িক সাফল্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দাতব্য কর্মকাণ্ড এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকারে রয়েছে। তার জীবন কেবল একটি অনুপ্রেরণা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তার মতো নেতা পৃথিবীতে খুব কমই আসে, এবং তার শূন্যতা দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হবে।
রতন টাটার মৃত্যুতে বিশ্ব এক মহান নেতাকে হারিয়েছে, কিন্তু তার কাজ এবং দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমরা সবাই শিখতে পারি কিভাবে আমরা নিজেদের উন্নয়ন এবং অন্যদের সেবার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পারি।
আরো পড়ুনঃ ইলন মাস্ক এর “উই রোবট” ইভেন্টে বড় চমক